এক দশক পরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রানী মাছ

এদেশের মিঠাপানির জলাশয় বিশেষ করে খাল, বিল, হাওড়, বাওড় ও নদীতে প্রচুর পাওয়া যেত নয়ন জুড়ানো বাহারি রঙয়ের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর রানী মাছ।

এককালে রানী মাছের নিয়মিত দেখা মিললেও গত এক দশক ধরে মাছটি বিপন্ন হয়ে পড়ে। তবে সম্প্রতি ঝাঁকে ঝাঁকে রানী মাছ জেলেদের জালে উঠছে। বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব যখন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে ঠিক তখনই বংশবৃদ্ধির সময় হয় হারিয়ে যাওয়া এ রানী মাছের।

এছাড়া সুন্দর আবহাওয়া ও হাওরগুলোতে মানুষের অনুপস্থিতির কারণে এই মাছগুলো পূনরায় ঝাঁকে ঝাঁকে জালে ধরা পড়ছে।

১৮৮৮ সালে প্রথমবারের মতো হ্যামিল্টন এই মাছটির নাম দেন রানী ফিশ। অঞ্চলভেদে এ মাছকে বেতি, বউ মাছ, পুতুল মাছ, বউ রানী, বেতাঙ্গী, বেত্রাঙ্গী, বেটি, বুকতিয়া নামেও ডাকা হয়।

রানী মাছের প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে জুন। চলতি বছরের এ সময় করোনার কারণে লকডাউন থাকায় প্রকৃতি পুরোপুরি একা ছিল।

অনেক জেলেই মাছ ধরতে হাওরে যায়নি। এছাড়াও রানী মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ বন্যা ও বৃষ্টিপাত বজায় থাকায় এর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

রাণী মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি কেজি রানী মাছের দাম ২ হাজার থেকে ২৫০০ টাকা।

জলজ পোকামাকড়, লার্ভা, ক্রাস্টেসিয়ান ও কিছু উদ্ভিদ পদার্থ রানী মাছের খাদ্য।  রানী মাছ দিনের বেলা লুকিয়ে থাকে ও সন্ধ্যায় সক্রিয় হয়।

রাণী মাছ দৈর্ঘ্যে ৬ ইঞ্চি (১৫.২ সেমি) পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে  অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছ ২.৫ থেকে ৩ ইঞ্চি (৬.৫ সেমি) হয়। আর জীবনকাল পাঁচ থেকে আট বছর।

সরকার হাকালুকি হাওরকে ২০১২ সালে স্থায়ীভাবে মাছের অভয়ারণ্য হিসাবে ঘোষণা করে। যা রাণী মাছের বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ বলেও মনে করেছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

প্রোটিনের চাহিদা মেটানো ছাড়া অ্যাকুরিয়াম ফিশ হিসেবে বাসাবাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পারে রানী মাছ। পৃথিবীর অনেক দেশেই অ্যাকুরিয়াম ফিশ হিসেবে রফতানি করা সম্ভব হতে পারে এ মাছ।

পূর্ববর্তী পড়ুন

আবের দেখানো পথেই চলবে জাপানের পররাষ্ট্র নীতি

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − nine =