আবের দেখানো পথেই চলবে জাপানের পররাষ্ট্র নীতি

জাপানের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের উত্তরসূরি তার দেখানো একই পথ অনুসরণ করে পররাষ্ট্র নীতি চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন আবের সমর্থকরা।

এদিকে জাপানের বেশিরভাগ লক্ষ্য অর্জন না করা সত্ত্বেও জাপানের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি বৃদ্ধি পেয়েছে যার কারণেই শিনজো আবের পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা উচিৎ বলে মনে করেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা।

তবে জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী আবের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান যেমন, জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটকে জোরদার করা, চীনের উত্থানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে উন্নীত করার মতো প্রত্যাশা করছেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী যিনি হবেন তিনি বিশ্বনেতাদের সাথে সম্ভবত ব্যক্তিগত সম্পর্ক জোরদার করতে ধীরগতির পথ অনুসরণ করে চলবেন বলেও মনে করেন জাপানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্বাস্থ্যগত কারণে গত ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। তবে কবে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তা জানানো হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বিশেষত বিগত বছরগুলোতে একসাথে গলফ খেলতে গিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বিশ্বব্যাপি বেশ পরিচিত ছিলেন শিনজো আবে।

প্রায় আট বছর আগে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে শিনজো আবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ব্যক্তিগতভাবে ২৭ বার সাক্ষাত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কূটনীতিক বলেন, ধারাবাহিকতা কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও মূল বিষয়। এটি অন্যান্য দেশের আস্থা অর্জনে সহায়তায় করেছে। নেতাদের মধ্যে বা পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের মধ্যে সম্পর্ক কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলে।

এদিকে জাপানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক নরিও টয়োশিমা জাপান টুডেকে বলেন, জাপানের বর্তমান বৈদেশিক নীতি অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। কেন না নতুন মন্ত্রিসভা আরও এক বছর সময় পাবে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি নির্বাচন আগামী ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। এই সময় দলীয় সভাপতি হিসেবে থাকছেন শিনজো আবেই। এই সময়ে পরবর্তী তিন বছরের জন্য ক্ষমতাসীন দলের প্রধান নির্ধারণ করার জন্য আরও একটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

টয়োশিমা আরো বলেন, নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চিত। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দারুণ সম্পর্ক করেছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার মতো পরাশক্তির মুখোমুখি হলেও জাপান তার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়েছিল। এর কারণ হচ্ছে শিনজো আবের দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসন।

কর্মকর্তারা বলছেন, সংবেদনশীল সুরক্ষা আইন পাসের ফলে বিদেশে স্ব-প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকা প্রসারিত হয় যা আবের অধীনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে সম্ভব হয়েছিল। আমেরিকার সাথে জাপানের আরও দৃঢ় সম্পর্ক গঠনে ভূমিকা রেখেছে আবের সাথে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছেন শিনজো আবে। যা তার ব্যক্তিগত সম্পদই নয়, দেশের সম্পদ।

যার কারণে শিনজো আবের দেখানো পথেই জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হাটবেন। একই সাথে আবের পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করবেন বলে মনে করেন জাপানের আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা

তথ্যসূত্র: জাপান টুডে

পূর্ববর্তী পড়ুন

ফের শুটিংয়ে ফিরছেন পরীমনি

পরবর্তী পড়ুন

এক দশক পরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রানী মাছ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + 14 =